1. akhi@janatarjagoron.com : আখি আক্তার : আখি আক্তার
  2. foreign@janatarjagoron.com : আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  3. atau@janatarjagoron.com : Mohammed Ataullah : Mohammed Ataullah
  4. mosharaf.bbadcc@gmail.com : বিনোদন ডেস্ক : বিনোদন ডেস্ক
  5. jonotarjagoron@gmail.com : Editor :
  6. labony@janatarjagoron.com : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
  7. life@janatarjagorn.com : লাইফস্টাইল ডেস্ক : লাইফস্টাইল ডেস্ক
  8. onlinedesk2@janatarjagoron.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  9. sohag@janatarjagoron.com : Khan Saiful Sohag : Khan Saiful Sohag
  10. info2@janatarjagoron.com : উপজেলা প্রতিনিধি : উপজেলা প্রতিনিধি
  11. mosharafrobindev@gmail.com : জেলা প্রতিনিধি : জেলা প্রতিনিধি
ভুলে যাওয়ার পিছনে আলঝেইমারের ছায়া: একটি গভীর অনুসন্ধান - Janatar Jagoron

ভুলে যাওয়ার পিছনে আলঝেইমারের ছায়া: একটি গভীর অনুসন্ধান

  • সর্বশেষ আপডেট: শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  • ১৯৭ বার পঠিত
আলঝেইমার

ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিলোপের মতো রোগে আক্রান্ত হলে রোগী আশপাশের মানুষদের চিনতে পারছেন না এবং নিজের দৈনন্দিন কাজেও ভুল করে বসেন। ধীরে ধীরে তাঁরা অন্যদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, এবং বর্তমানে ডিমেনশিয়া এক ভয়াবহ ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে।

তবে, প্রাত্যহিক জীবনে কিছু কিছু বিষয় ভুলে যাওয়া মানেই যে ডিমেনশিয়া, তা নয়। বার্ধক্যের সময় স্মৃতির ভ্রমণ একটি স্বাভাবিক ঘটনা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক সময় সাধারণ বিষয়গুলোও মন থেকে পালিয়ে যায়। বাড়ির বয়স্ক সদস্যদের দিকে তাকালে এর সত্যতা সহজেই ধরা পড়ে। তবে যখন এই ভুলে যাওয়া সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করে, তখন তা অবশ্যই গুরুত্বারোপের দাবি রাখে।

যেকোনো রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসা করা চাই, কিন্তু ডিমেনশিয়া বা আলঝেইমারের মতো রোগের ক্ষেত্রে প্রতিরোধ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, যদিও তা তত সহজ নয়। জীবনের চলার পথে সচেতনতা ও কার্যকরী পদক্ষেপই হতে পারে এই রোগগুলোর বিরুদ্ধে আমাদের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ সুরক্ষা।

দৈনন্দিন জীবনে যদি ধারাবাহিক ভুলে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে থাকে, তবে তা স্মৃতিভ্রমের মারাত্মক লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আলঝেইমারের মতো রোগ একটি বিশেষ ধরনের ডিমেনশিয়া, তবে এর কারণগুলি নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা কঠিন। কিছু উপসর্গ রয়েছে, যেগুলো আমাদের প্রতিদিনের জীবনে সাধারণভাবে ঘটে থাকে। যেমন:

১. সংখ্যাজনিত সমস্যা: ডিমেনশিয়া আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য বড় অঙ্কের হিসাব করা একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। যদিও অনেকেই টাকা গুনতে গিয়ে ভুল করেন, বিশেষ করে বয়স বাড়লে। এই পরিস্থিতিকে ডিমেনশিয়া হিসেবে ভাবার প্রয়োজন নেই, তবে যদি এটি ক্রমাগত খারাপ হতে থাকে, তাহলে সতর্ক হওয়া উচিত।

২. কথোপকথনে বিভ্রান্তি: ডিমেনশিয়ার রোগীরা কথাবার্তায় মাঝে মাঝে খেই হারিয়ে ফেলেন বা ভুলে যান কী বলছেন। এই সমস্যা সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা যায়। যখন কাউকে কিছু বলতে গিয়ে শব্দবন্ধ মনে পড়ছে না, তা মানেই ডিমেনশিয়া নয়। কিন্তু যদি এটি বারবার ঘটে, তবে তা উদ্বেগের বিষয়।

৩. দিন ও তারিখ ভুলে যাওয়া: যদি আপনি দিন ভুলে যান, তা মানে আপনার ডিমেনশিয়া হয়েছে, এমন মনে করা ভুল। কর্মবিরতির কারণে অনেকেরই দিন-তারিখ মনে রাখতে সমস্যা হয়। আমরা প্রায়ই ক্যালেন্ডার বা মোবাইলের সাহায্য নিই। কিন্তু ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা এভাবে বছরের কোনো দিন মনে রাখতে পারেন না।

এগুলো লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবেন যে, ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক একটি বিষয়, তবে এটি যদি মারাত্মক আকার ধারণ করে, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।

আলঝেইমার রোগের সাধারণ লক্ষণ

বয়স্ক ব্যক্তিদের, মানে ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিদের ডিমেনশিয়ার অন্যতম কারণ হলো আলঝেইমার রোগ। এতে মস্তিষ্কের ক্ষয় হতে থাকে। আলঝেইমারের কিছু সাধারণ লক্ষণ রয়েছে। এগুলো হলো:

  • স্মৃতিভ্রংশ, যা দৈনন্দিন জীবনে সমস্যার সৃষ্টি করছে।
  • সঠিক বিচার-বিবেচনার অভাব।
  • স্বতঃস্ফূর্ততার অভাব এবং কোনো কাজে উৎসাহ বোধ না করা।
  • স্থান-কাল সম্পর্কে ভুল করা।
  • ভুলে যাওয়ার কারণে বারবার একই প্রশ্ন করা।
  • কোনো কাজ শেষ করতে আগের চেয়ে দীর্ঘ সময় লাগা।
  • টাকাপয়সার হিসাব, বিল ইত্যাদিতে জগাখিচুড়ি করে ফেলা।
  • নিজের জিনিসপত্র বারবার হারিয়ে ফেলা বা অদ্ভুত কোনো স্থানে রাখা (যেমন কাপড় রাখার আলমারির ভেতর জুতা রাখা)।
  • কখনো পথ বা বাড়ি হারিয়ে ফেলা বা উদ্দেশ্যবিহীন ঘোরা।
  • অতিরিক্ত উদ্বেগ এবং কখনো অতিরিক্ত রাগ বা ক্রুদ্ধ ভাব, মুড ও ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন পরিলক্ষিত হওয়া।

আপনার পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের দিকে একটু লক্ষ্য করুন। অনেক সময় ডিমেনশিয়ার প্রাথমিক লক্ষণগুলো তাঁদের আচরণে এমনভাবে প্রকাশ পায় যে আশপাশের মানুষ বিব্রত বা বিরক্ত হতে পারেন। তবে, যখন এই ধরনের ভুলে যাওয়া বা স্মৃতি-সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দেয়, তখন তা গুরুতর হতে পারে। এই অবস্থায় চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সচেতনতা এবং প্রাথমিক পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি উন্নত করা সম্ভব।

অধ্যাপক ডা. এম এস জহিরুল হক চৌধুরী, অধ্যাপক, ক্লিনিক্যাল নিউরোলজি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল, ঢাকা

পোস্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগে আরও খবর..